সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

জুলাই আন্দোলনে ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় এন সি পি প্রার্থী হুমায়রা নূরকে ঘিরে সমালোচনা

নোয়াখালী এক্সপ্রেস, নোয়াখালী এক্সপ্রেস
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:১০ অপরাহ্ন
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
1765368350696

স্টাফ রিপোর্টার

জাতীয় নাগরিক পার্টি–NCP থেকে নোয়াখালী-৫ আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূরকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তাকে ঘিরে জেলায় আলোচনা শুরু হয়েছে। নিজের পরিচিতি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য, শিক্ষা, এবং নোয়াখালীর মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করলেও তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ ভোটার ও তরুণ সমাজের একটি অংশ।

সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় তার সম্পূর্ণ নীরবতা। যখন গোটা দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাল প্রোফাইলে ভরে উঠেছিল, তখন হুমায়রা নূর কোনো পোস্ট করেননি, এমনকি তার প্রোফাইলেও কোনো অবস্থান দেখাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনটিকে ‘জাতির আন্দোলন’ বলা হলেও সে সময়ে তার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করছেন।

এ নিয়ে আন্দোলনকামী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন যে ব্যক্তি জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে নিজেদের ‘গর্ব জাত’ প্ল্যাটফর্মের নেত্রী পরিচয় দেন, সেই কঠিন সময়টিতে তার কোনো দৃশ্যমান উপস্থিতি কেন ছিল না? কেউ কেউ এটিকে “মাঠে না থাকা কিন্তু আন্দোলনের মালিকানা দাবি” বলেও মন্তব্য করেছেন।

হুমায়রা নূরকে ঘিরে আরেকটি আলোচনার বিষয় তার পারিবারিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। তার স্বামী ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দীর্ঘদিন বিএনপি ঘরানার আইনজীবী পরিচয়ে পরিচিত। ফলে NCP-এর মনোনয়ন নিয়ে তার পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান কোথায়, তা নিয়েও এলাকায় নানা বিশ্লেষণ ঘুরছে।

তবে এসব সমালোচনার মধ্যেও হুমায়রা নূর নিজেকে জনগণের প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি দাবি করেছেন, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান নিয়েই রাজনীতিতে এসেছেন এবং নোয়াখালীর মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করতেই তিনি এই যাত্রা শুরু করেছেন।

তবে জুলাই আন্দোলনে তার নীরবতা, সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি এবং পরিবারের রাজনৈতিক ঝোঁক এসব প্রশ্ন নির্বাচনী মাঠে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে তা নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা তৈরী হয়েছে।